আজ মহাষষ্ঠী

মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বাঙালি হিন্দুর সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গা পূজা। এদিন আসনে অধিষ্ঠিত হবেন দেবী দুর্গা। তাকে ঘিরে থাকবে ধূপ-ধুনুচি, পঞ্চপ্রদীপ, উলুধ্বনি ও ঢাকের তালে উদ্‌যাপন।

এ বছর আসার কালে দেবী দুর্গার বাহন ছিল দোলা, যাওয়ার বাহন গজ বা হাতি।

সাধারণত মহালয়ার ছয় দিন পরই হয় দেবী দুর্গার বোধন। অর্থাৎ মহালয়ার পর থেকে দেবীর আগমনের ঘণ্টা বাজে। মহালয়া হয়ে থাকে শরৎ কালে। কিন্তু এক মাসে দুটি অমাবস্যা পড়লে সেই মাসকে শাস্ত্রমতে ‘মল’ মাস বলা হয়। এই মাসে শুভ কাজের রীতি নেই। তাই মহালয়া শুরুর ৩৫ দিন পর দেবী দুর্গার আগমন। এ বছর মহালয়া অনুষ্ঠিত হয় ১৭ সেপ্টেম্বর, আর ষষ্ঠী পূজা শুরু হলো ২২ অক্টোবর।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার দেবীর ষষ্ঠাদি কলারাম্ভ সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে। সকালে দুর্গাদেবীর ষষ্ঠীর ঘট বসবে ও পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যাবেলায় দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাস হবে।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সূচি অনুযায়ী পুরোহিত ষষ্ঠী পূজা সম্পন্ন করবেন। সারা দেশের পূজা মণ্ডপগুলোতেও চলছে দেবী দুর্গাকে বরণের প্রস্তুতি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান এ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন এবং দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ সব নাগরিকের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি। করোনাভাইরাস মহামারিতে তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্‌যাপনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবই নয়, এটি এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

এদিকে করোনা মহামারির কারণে এবার সন্ধ্যা আরতির পর পূজামণ্ডপ বন্ধ রাখা এবং মণ্ডপ থেকে সরাসরি স্ব স্ব ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি। বুধবার সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কমিটির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।