ডাক বিভাগ মহাপরিচালকের ভয়ংকর ডাকাতি

ডাক বিভাগে ভয়ংকর ডাকাতি। গ্রামের জনসাধারণকে ডিজিটাল সেবা দেওয়ার কথা বলে শত শত কোটি লোপাট করেছে ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুধাংশু শেখর ভদ্র। কেনা-কাটা থেকে শুরু করে ডিজিটাল পোস্ট সেন্টার স্থাপন- সব খানে রেখেছেন অনিয়মের স্বাক্ষর। শুধু তাই নয় বহু ডিজিটাল সেন্টারের অস্তিত্বই নেই, তবুও নাম ভাঙিয়ে তুলে নিয়েছেন ৫৪০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। । এসবই উঠে এসেছে ডাক বিভাগের গঠিত তদন্ত রিপোর্টে। 

সুধাংশু শেখর ভদ্র, ডাক বিভাগের মহাপরিচালক। নামে ভদ্র হলেও তার কাজের ফিরিস্তি বলছে ভিন্ন কথা। কেননা মহাপরিচালক হওয়ার আগে যখন তিনি ছিলেন ডাক বিভাগের উপ-মহাপরিচালক তখন তিনিই এই প্রকল্পের পরিচালক। ৫৪০ কোটি ৯৪ লাখ টাকার ই পোস্ট ডাকঘর প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় তার অধীনে।

বাস্তবে তা দেখতে ঢাকার পাশের উপজেলা গাজীপুরের কাপাসিয়ায় গেলে। পাঁচটি ডাকঘর ঘুরে দেখা গেলো কোথাও কোথাও ডাক চলছে আরেক জনের দোকানে, কোথায়ও আবার পোস্ট অফিসই চলে গেছে পোস্টার মাস্টারের বাড়িতে।
এক এলাকাবাসী বলেন, আমাদের পোস্ট অফিস কোথায় আমরা নিজেরাই জানি না।

পোস্ট মাস্টার বলেন, চেয়ার টেবিল দেবে বলেছে কম্পিউটার রাখার জন্য। ব্রাঞ্চ অফিসে এগুলো দেয় নাই।

বাস্তবে কাপাসিয়ার চরখামের ডাকঘর একটি কিন্তু নথিতে ব্যবহার করা হয়েছে দুই জায়গায়, এভাবেই এক স্থানের নাম অসংখ্য বার লিখে সাড়ে আট হাজার ডাকঘরের তালিকা পূর্ণ করা হয়েছে।

এক পোস্ট মাস্টার বলেন, আমাদের পোস্ট অফিসটা অনেক পুরনো। মেরামত করার জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু ওরা বলছে যে সময় লাগবে।

আরেক পোস্ট মাস্টার বলেন, কাজ করতে পারতেছি না। কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেছে। স্ক্যানার মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে।

ডাক বিভাগের ২০১৫-১৬ সালে একটি নথিতে দেখা যায় কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে দেখানো হলেও খাতায় উল্লেখ নেই কি কেনা হয়েছে? এসব যন্ত্রপাতি গ্রহণ কমিটির কাছেও সুধাংশু ভদ্র ছিলেন এক ত্রাসের নাম।

ডাক অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আনজির আহমেদ বলেন, ফাইলপত্র আমাদের কাছে কখনো দেয়নি। আমাদের কোন গ্রহণ কমিটিতেও রাখেনি।

খোদ মন্ত্রণালয়ের গঠিত ২টি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বলছে প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে সবখানে। এই বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, এই তদন্তের ফলাফল চূড়ান্তভাবে আসলে আমার কাছে, তার প্রেক্ষিতে অবশ্যই আমি ব্যবস্থা নিবো।

২০১২ থেকে ২০১৭ সালে শেষ হওয়া প্রকল্পের দূর্নীতি নিয়ে এরই মধ্যে দুদক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুধাংশু শেখর ভদ্রকে।