সম্প্রসারিত মেট্রোপলিটন এলাকাকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন

সৈয়দ মাসুদ, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাস্তা, ড্রেনসহ উন্নত অবকাঠামো ও নাগরিক সেবা, উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, বিদ্যুৎ সেবা, পানি সরবরাহ সেবা, পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা সেবা সঠিকভাবে ও সঠিক সময়ে পাওয়া ও দ্বৈত্য শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সম্প্রসারিত মেট্রোপলিটন এলাকাকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বেলা ১১টায় মহানগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে উক্ত মানববন্ধনের আয়োজন করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন সংলগ্ন পৌরসভা ও ইউনিয়নসমূহের সর্বস্তরের জনসাধারণ। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৪টি থানা থেকে ১২টি থানা করা হয়েছে, ফলে সম্প্রসারিত এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমুল পরিবর্তন হয়েছে এবং আমরা এর সুফল পাচ্ছি।

বিগত ১৯৯২ সালে ৪৮.৪০ বর্গকিলোমিটার মেট্রোপলিটন এলাকা নিয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়, সেক্ষেত্রে সম্প্রতি সম্প্রসারিত মেট্রোপলিটন এলাকার অধিবাসী হিসেবে উন্নত নাগরিক সেবা প্রাপ্তির স্বার্থে উল্লিখিত এলাকাকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি, যা যুক্তিযুক্তও বটে। একদিকে উপজেলা প্রশাসন অন্যদিকে মেট্রোপলিটন এলাকা, এছাড়াও বিচারিক আদালত মেট্রো হওয়ায় বর্তমানে আমরা দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় পরিচালিত হচ্ছি, আমরা এই দ্বৈত্য শাসন থেকে মুক্তি চাই।

পবা উপজেলার নওহাটা ও কাটাখালি পৌরসভা দুটি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকা সংলগ্ন এবং এর মাঝে অন্য কোন ইউনিয়ন নেই। নগরীর সন্নিকটে হওয়ায় এ এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে নগরায়ন ও শিল্পায়ন হচ্ছে, ফলে এখানকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত নগরায়নের জন্য সম্প্রসারিত রাজশাহী মেট্রোপলিটন (আরএমপি) এলাকাভুক্ত কাটাখালী থানার কাটাখালী পৌরসভা, শাহমখদুম, পবা ও এয়ারপোর্ট থানার নওহাটা পৌরসভা, রাজপাড়া থানার হরিপুর ইউনিয়ন,

দামকুড়া থানার দামকুড়া ইউনিয়ন, বড়গাছি ইউনিয়ন, হড়গ্রাম ইউনিয়ন, পারিলা ইউনিয়ন, হরিয়ান ইউনিয়ন, বেলপুকুর থানার বেলপুকুর ইউনিয়নের ও পুঠিয়া থানার বানেশ^র ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি। বক্তারা আরো বলেন, আমরা জানতে পেরেছি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক এলাকা সম্প্রসারণসহ উক্ত মহানগরীকে মেগাসিটিতে রূপান্তর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

আমরা সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই ও দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দেখানো উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের চেতনা ধারণ করি। আমরা স্বপ্ন দেখি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত হয়ে উন্নত সকল নাগরিক সেবা পাওয়ার। উল্লেখ্য যে, নওহাটা ও কাটাখালী পৌরবসীগণ কিছু সেবার ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের চেয়ে অধিক মূল্য পরিশোধ করেও মানসম্মত সেবা পাচ্ছে না,

উদাহরণস্বরুপ বলা যেতে পারে নওহাটা ও কাটাখালী পৌরসভার ৩/৪ পাইপের পানির লাইনের মাসিক বিল ১৫০ টাকা পক্ষান্তরে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় যার বিল প্রায় ৯০টাকা। বর্তমানে ইউনিয়ন ও পৌরসভা কর্তৃক প্রদত্ত প্রায় সকল সেবার চেয়ে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত সেবার মান অনেক ভাল বিধায় আমরা সম্প্রসারিত মেট্রোপলিটন এলাকার বাসিন্দারা উপরোল্লিখিত এলাকাকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

মানববন্ধনের সভাপতিত্ব করেন পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল বারী ভুলু। বক্তব্য দেন ইউসুফপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ শফিউল আলম রতন, হরিয়ান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ইয়াসিন আলী, বড়গাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মাসুম, হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সাইদুর ইসলাম বাদল,

কাটাখালি পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোতালেব মোল্লা, নওহাটা পৌরসভার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম, হড়গ্রাম ইউপির বাসিন্দা ও জেলা যুবলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক শাহাদত হোসেন পিন্টু, ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি চন্দ্রিমা থানার আহ্বায়ক হাফেজা খাতুন হ্যাপি, কাটাখালি পৌরসভার বাসিন্দা আবু সামা ও পারিলা ইউপির বাসিন্দা প্রভাষক মনিরুজ্জামান বাবু প্রমুখ।